স্বামী কি স্ত্রীকে মারতে পারবে?

সুরা ৪ (নিসা) এর ৩৪ নম্বর আয়াতটির প্রচলিত অনুবাদ হলঃ

ডঃ জহুরুল হকঃ

পুরুষরা নারীদের অবলম্বন, যেহেতু আল্লাহ তাদের এক শ্রেণীকে অন্য শ্রেণীর উপরে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন, এবং যেহেতু তারা তাদের সম্পত্তি থেকে খরচ করে। কাজেই সতীসাধ্বী নারীরা অনুগতা, গোপনীয়তার রক্ষয়ীত্রি, যেমন আল্লাহ রক্ষা করেছেন। আর যে নারীদের ক্ষেত্রে তাদের অবাধ্যতা আশঙ্কা কর, তাদের উপদেশ দাও, আর শয্যায় তাদের একা ফেলে রাখো, আর তাদের প্রহার কর। তারপর যদি তারা তোমাদের অনুগত হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে অন্য পথ খুঁজো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সর্ব জ্ঞাতা, মহামহিম। (৪:৩৪)

মুহিউদ্দিন খানঃ

পুরুষেরা নারীদের উপর কর্তৃত্বশীল এ জন্য যে, আল্লাহ একের উপর অন্যের বৈশিষ্ট্য দান করেছেন এবং এ জন্য যে, তারা তাদের অর্থ ব্যয় করে। সে মতে নেককার স্ত্রীলোকগণ হয় অনুগতা এবং আল্লাহ যা হেফাযতযোগ্য করে দিয়েছেন লোক চক্ষুর অন্তরালেও তার হেফাযত করে। আর যাদের মধ্যে অবাধ্যতার আশঙ্কা কর তাদের সদুপদেশ দাও, তাদের শয্যা ত্যাগ কর এবং প্রহার কর। যদি তাতে তারা বাধ্য হয়ে যায়, তবে আর তাদের জন্য অন্য কোন পথ অনুসন্ধান করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সবার উপর শ্রেষ্ঠ। (৪:৩৪)

আমার ব্যক্তিগত গবেষণা এবং বেশ কয়েকজন গবেষক এবং বিখ্যাত কু’রআনের অনুবাদক আব্দেল হালেম, মুহম্মদ আসাদ এবং ডঃ লালেহ বখতিয়ারের কু’রআনের অনুবাদ অনুসারে আমি এর শুদ্ধতর বাংলা অনুবাদ প্রস্তাব করছিঃ

পুরুষরা নারীদের সংরক্ষণকারী [ভরণপোষণকারী] কারন আল্লাহ পুরুষদের কয়েকজনকে অন্যদের(নারী/পুরুষ) থেকে বেশি দিয়েছেন [অনুগ্রহ করেছেন, সন্মানিত করেছেন], এবং তারা(পু) নিজেদের সম্পত্তি থেকে খরচ করে। আর নীতিবান নারীরা আল্লাহর প্রতি অত্যন্ত অনুগত [ধর্ম প্রাণ, আন্তরিক, অনুগত], গোপন ব্যাপারগুলো গোপন রাখে যা আল্লাহ তাদেরকে রক্ষা করতে বলেছেন। আর তাদের(স্ত্রী) মধ্যে যাদেরকে তোমরা(পু) অসদাচারনের [দুর্ব্যবহার, ঘৃণা, অন্যায় আচরণ, বিদ্রোহাচারণ, খারাপ ব্যবহার] ভয় কর, তাদেরকে(স্ত্রী) তোমরা(পু) সতর্ক কর [উপদেশ, সাবধান, পরিণাম জানানো], তারপর তাদেরকে(স্ত্রী) তোমরা(পু) বিছানায় [শোবার ঘরে] ত্যাগ কর, এবং সবশেষে তাদেরকে(স্ত্রী) তোমরা(পু) আলাদা করে দাও/দৃষ্টান্ত দাও। তবে যদি তারা(স্ত্রী) তোমাদের(পু) সম্মতি দেয়, তাদের(স্ত্রী) বিরুদ্ধে কিছু করবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবার উপরে, মহান। (৪:৩৪)

প্রচলিত অনুবাদে তিনটি বিতর্কিত ব্যপার রয়েছেঃ

  • পুরুষরা স্ত্রীদের উপর কর্তৃত্ব করার অধিকার রাখে।
  • স্ত্রীরা স্বামীর প্রতি অনুগত হতে বাধ্য।
  • স্বামী স্ত্রীর অবাধ্যতার আশঙ্কা করলে স্ত্রীকে প্রহার করতে পারবে, যতক্ষন না স্ত্রী স্বামীকে বাধ্যতার প্রমাণ দেখিয়ে সন্তুষ্ট করতে না পারে।

অনেকেই এই আয়াতটি পড়ে বিভ্রান্তিতে পড়ে যান যে কিভাবে আলাহ, যিনি সবচেয়ে জ্ঞানী এবং সবচেয়ে দয়ালু, এরকম একটি পুরুষ পক্ষপাতী নির্দেশ কু’রআনে দিতে পারেন, যা যুগে যুগে স্ত্রীদেরকে পুরুষদের অধীন করে রাখতে এবং স্ত্রীদের উপর স্বামীর শারীরিক নির্যাতন সমর্থন করবে? তিনি কি জানেন না যে স্বামীরা যখন দেখবে কু’রআন তাদেরকে তাদের স্ত্রীদেরকে প্রহার করার অনুমতি দিচ্ছে তখন তারা তা ব্যাপকভাবে অপব্যবহার করবে? তাছাড়া স্ত্রীদেরকে প্রহার করাটা কিভাবে কোন পারিবারিক সমস্যার সমাধান হতে পারে? স্বামীরা কি সবসময় সঠিক এবং স্ত্রীরা কি সবসময়ই ভুল করে?

অনেকে বিতর্কিত আয়াতটির বিভ্রান্তিকে কমানোর জন্য “হালকা প্রহার” অনুবাদ করেছেন। অনেকে হাদিস দিয়ে দেখানোর চেষ্টা করেছেন যে স্ত্রীদেরকে খুব অল্প প্রতীকী আঘাত করতে হবে, আক্ষরিক অর্থে প্রহার করা যাবেনা। তারা হাদিস দিয়ে কু’রআনের বাণীকে হালকা করার চেষ্টা করেন, যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আল্লাহ যদি চেতেন তিনি নিজেই পরিস্কার করে বলতে পারতেন কিভাবে প্রহার করতে হবে। তিনি তা পুরুষের ইচ্ছার উপর ছেড়ে দিতেন না।

কিন্তু সত্যিই কি আল্লাহ যে কোন পরিস্থিতিতে, যে কোন যোগ্যতায় স্বামীদেরকে স্ত্রীদের উপর কর্তৃত্ব দিয়েছেন, স্ত্রীদেরকে স্বামীর প্রতি অনুগত থাকতে বলেছেন এবং স্ত্রীদেরকে প্রহার করার অনুমতি দিয়েছেন, যদি স্বামীরা অবাধ্যতার আশঙ্কা করে?

কর্তৃত্ব

আরবি قَوَّامُونَ কা’ওয়ামুন্না শব্দটির অর্থ “কর্তৃত্ব” আর কোথাও নেই। কু’রআনে এই শব্দটি অন্যান্য আয়াতে সংরক্ষক, অটল থাকা, দাঁড়ান, পুনরুত্থান, ভরণপোষণ ইত্যাদি অর্থে ব্যবহার হয়েছে। এটি কা’ইম (যে যত্ন করে, যে কারও জন্য দায়ী) এর একটি বিশেষ রুপ। ২:২২৪ – ২:২৪২ পর্যন্ত আয়াতগুলোতে এটাই পরিস্কার হয় যে পারিবারিক সম্পর্কের ব্যপারে স্ত্রীরা পুরুষদের সমান অধিকার রাখে এবং পুরুষরা স্ত্রীদের ভরণপোষণ করার জন্য দায়ী। তাই কা’ওয়ামুন্না অর্থ ‘কর্তৃত্ব’ হবার কোন যুক্তি বা প্রমাণ কোনটাই নেই। বরং এর অর্থ হবে “সংরক্ষণকারী” বা “ভরণপোষণকারী”। [আব্দেল হালেম, লালেহ বখতিয়ার]

অনুগত

আরবি قَانِتَاتٌ কা’নিতাতুন অর্থ কয়েকজন অনুবাদক করেছেন “স্বামীর প্রতি অনুগত” অথচ কু’রআনে আর যত জায়গায় কা’নিতাতুন এবং তার অন্যান্য রুপ গুলো এসেছে, তার প্রত্যেকটি “আল্লাহর প্রতি অত্যন্ত অনুগত” অর্থ করা হয়েছে। শুধুমাত্র এই একটি আয়াতে স্ত্রীদেরকে পুরুষদের প্রতি অনুগত – এই অর্থ করা হয়েছে। কু’রআনে ৬৬:১২ আয়াতে আল্লাহ একই শব্দ ব্যবহার করেছেন ঈসা(আ) নবীর মা মরিয়মের(আ) বেলায়। মরিয়মের(আ) কোন স্বামী ছিলনা। তাই তার স্বামীর প্রতি অনুগত হবার প্রশ্ন আসে না। সুতরাং কা’নিতাতুন অর্থ স্বামীর প্রতি অনুগত হতে পারেনা বরং বাকি সবগুলো আয়াতের মত এখানেও “আল্লাহর প্রতি অনুগত হবে”। আল্লাহ যদি শুধুমাত্র এই আয়াতে কা’নিতাতুন ভিন্ন অর্থ করতেন, তবে তিনি তা পরিস্কার করে বলে দিতেন। আরও সমর্থন পাওয়া যায় ৬৬:৫ থেকে যেখানে আল্লাহ আদর্শ স্ত্রীর গুণগুলো বর্ণনা করেছেন, যেখানে তিনি একই কা’নিতাতুন শব্দটি ব্যবহার করেছেন “আল্লাহর প্রতি অত্যন্ত অনুগত” অর্থে। কয়েকজন অনুবাদক সেখানেও সুবিধামত “স্বামীর প্রতি অনুগত” ব্যবহার করেছেন কোনই ভিত্তি ছাড়া। [আব্দেল হালেম, লালেহ বখতিয়ার]

প্রহার

আরবি اضْرِبُوهُنَّ ইদ্‌রিবু’হুন্না শব্দটি ৪:৩৪ আয়াতে বাংলা করা হয়েছে “তাদেরকেস্ত্রী প্রহার কর”। অথচ এই আরবি শব্দটির অনেকগুলো অর্থ হয় যা কু’রআনে বিভিন্ন আয়াতে ভিন্ন ভিন্ন অনুবাদ করা হয়েছে। এই শব্দটি এসেছে মূল ض ر ب দা-রা-বা থেকে যার অর্থগুলো হলঃ

  • ভ্রমণ করা, চলে যাওয়া – ৩:১৫৬, ৪:১০১, ৩৮:৪৪, ৭৩:২০, ২:২৭৩।
  • আঘাত করা – ২:৬০, ২:৭৩, ৭:১৬০, ৮:১২, ২০:৭৭, ২৪:৩১, ২৬:৬৩, ৩৭:৯৩, ৪৭:৪।
  • প্রহার করা – ৮:৫০, ৪৭:২৭।
  • উপস্থাপন করা – ৪৩:৫৮, ৫৭:১৩।
  • উদাহরন, প্রতীক, দৃষ্টান্ত দেওয়া – ১৪:২৪, ১৪:৪৫, ১৬:৭৫, ১৬:৭৬, ১৪:১১২, ১৮:৩২, ১৮:৪৫, ২৪:৩৫, ৩০:২৮, ৩০:৫৮, ৩৬:৭৮, ৩৯:২৭, ৩৯:২৯, ৪৩:১৭, ৫৯:২১, ৬৬:১০, ৬৬:১১।
  • দুর্দশা পতিত হওয়া – ২:৬১।
  • ঢেকে দেওয়া – ১৮:১১।
  • পার্থক্য করা – ১৩:১৭।
  • ফেরত নেওয়া – ৪৩:৫।

প্রশ্ন আসে কেন এতগুলো মানে থাকতে “প্রহার” মানেটিই বেছে নেওয়া হল যখন স্ত্রীদের কথা আসে?

পুরো কু’রআনে অন্য যেই দুটি আয়াতে দা-রা-বা অর্থ “প্রহার করা” বেছে নেওয়া হয়েছে সেই দুটি আয়াতেও তা “প্রহার করা” হবে কিনা তা নিয়ে অনেক সন্দেহ আছে, যা আমরা আলাদা ভাবে আলোচনা করবো।

অনেকে বলেন, দা-রা-বা এর একটি অর্থ যেহেতু “আঘাত করা” হয়, তাহলে কেন স্ত্রীদেরকে আঘাত করা যাবে না। লক্ষ্য করুন, যতগুলো আয়াতে আল্লাহ আঘাত করতে বলেছেন, তার প্রত্যেকটি আয়াতে তিনি পরিস্কার করে বলে দিয়েছেন কি দিয়ে বা কোথায় আঘাত করতে হবে। ২:৬০, ৭:১৬০, ২৬:৬৩ بِّعَصَاكَ লাঠি দিয়ে, ২:৭৩ بِبَعْضِهَا একটি অংশ দিয়ে, ৮:১২ فَوْقَ الْأَعْنَاقِ ঘাড়ের উপরে, ২০:৭৭ فِي الْبَحْرِ নদীতে, ২৪:৩১ بِأَرْجُلِهِنَّ পা দিয়ে,  ৩৭:৯৩ بِالْيَمِينِ ডান হাত দিয়ে, ৪৭:৪ الرِّقَابِ ঘাড়ে। প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহ পরিস্কার করে বলে দিয়েছেন “কি দিয়ে” বা “কোথায় আঘাত” হবে। তাই ৪:৩৪–এ স্ত্রীদেরকে “আঘাত কর” হতে পারে না কারণ আল্লাহ বলেন নি কি দিয়ে আঘাত করতে হবে বা কোথায় আঘাত করতে হবে। আল্লাহ কু’রআনে কোন বিভ্রান্তি রাখেন না, যেন মানুষ নিজের ইচ্ছা মত অর্থ করে নিতে পারে। যদি এরপরেও কেউ দাবি করেন যে এই আয়াতে আঘাত করাই হবে, তবে এটি হবে একমাত্র আয়াত যেখানে আল্লাহ কি দিয়ে বা কোথায় আঘাত করতে হবে তা সুস্পষ্ট করে বলেন নি।

আমরা যদি ১৩:১৭ আয়াতে দা-রা-বা অর্থ ‘প্রহার করা’ ধরি তাহলে কি হয় দেখুনঃ

… এভাবে আল্লাহ ‘প্রহার করেন’ সত্য এবং মিথ্যা। (১৩:১৭)

এটি অর্থহীন। এখানে দা-রা-বা নিশ্চিতভাবে ‘পার্থক্য করা’ / ‘আলাদা করা’ হবে।

প্রচলিত অনুবাদগুলো কু’রআনের বাকি সকল শান্তিপ্রিয়, নিরপেক্ষ বাণীর পরিপন্থি। কু’রআন পড়লে আপনি অবাক হবেন যে প্রচলিত ধারনা অনুসারে নারীদেরকে যেভাবে হেয় করা হয়, শারীরিক এবং মানসিকভাবে অত্যাচার করা হয়, পুরুষদের থেকে নারীদেরকে কম অধিকার দেওয়া হয়, কু’রআন তার সম্পূর্ণ বিপরিত নির্দেশ দেয়। কু’রআনে আল্লাহ নারীদের মর্যাদা, অবদান, অধিকার অত্যন্ত সুন্দর ভাবে বলা আছেঃ

আর তাঁর নিদর্শনগুলোর মধ্যে একটি হল যে তিনি তোমাদের জন্য তোমাদেরই সত্তা থেকে সহধর্মিণী সৃষ্টি করেছেন, যাতে করে তোমরা তাদের(স্ত্রী) মধ্যে প্রশান্তি [শান্তি, নিরাপত্তা, দয়া, করুণা, নম্রতা, বিনয়] খুজে পাও; এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালবাসা এবং দয়া তৈরি করেছেন। নিশ্চয়ই এর মধ্যে তাদের জন্য নিদর্শন রয়েছে যারা চিন্তা করে। (৩০:২১)

হে বিশ্বাসীরা, নারীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাদের উত্তরাধিকার হবে না। আর তাদের উপর এমন কোন সীমাবদ্ধতা তৈরি করবে না যাতে করে তোমরা তাদেরকে যা দিয়েছ তার কিছু ফেরত নিয়ে নিতে পারো, যদি না তারা প্রকাশ্যে কোন নীতিবিগর্হিত [মাত্রাতিরিক্ত, লজ্জাজনক, সীমালঙ্ঘন, ব্যভিচার] কাজ করে। আর তাদের সাথে দয়ার [সন্মান, ন্যায়ভাবে, সদ্ভাব] সাথে বসবাস কর। তবে যদি তোমরা তাদেরকে অপছন্দ কর, হতে পারে তোমরা এমন কিছু অপছন্দ কর যাতে আল্লাহ অনেক কল্যাণ রেখেছেন। (৪:১৯)

এই দুটি আয়াত থেকে পরিস্কার ভাবে বোঝা যায় নারীদের সম্পর্কে আল্লাহর সিদ্ধান্ত কি। নারীদের প্রতি এত সুন্দর সহমর্মিতার নির্দেশ যিনি দেন, তিনি কিভাবে তাদেরকেই সন্দেহের উপর ভিত্তি করে প্রহার করার কথা বলতে পারেন?

এছাড়াও দেখুন তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীদের ব্যপারে আল্লাহ কি বলেছেনঃ

আর যখন তুমি স্ত্রীদেরকে তালাক দাও এবং স্ত্রীরা অপেক্ষার সময় পূরণ করে, তখন হয় তাদেরকে সন্মানের সাথে/ন্যায্যভাবে রাখবে অথবা তাদেরকে সন্মানের সাথে ছেড়ে দিবে। তাদেরকে আঘাত/কষ্ট দিয়ে ধরে রাখবে না, যেন তোমরা তাদের উপর কোন সীমালঙ্ঘন করে না ফেল। আর যে সেটা করবে সে নিঃসন্দেহে নিজের উপর অন্যায় করবে। (২:২৩১)

যে স্ত্রী স্বামীকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে তালাকের মত একটি চরম পর্যায়ে পৌঁছাবার পর, তাকেই যেখানে আল্লাহ কোন রকম কষ্ট না দিয়ে সন্মানের সাথে রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন, সেখানে কিভাবে যে স্ত্রী স্বামীর সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করে সংসার করার চেষ্টা করছে, আল্লাহ তাকে প্রহার করতে বলতে পারেন?

যুগে যুগে অনেক মহীয়সী নারী এসেছেন যারা ধর্ম, কর্ম, গুণে তাদের স্বামীদের থেকে অনেক উপরে ছিলেন। সে সব স্বামীরা যদি তাদের অপেক্ষাকৃত কম বিচারবুদ্ধি, জ্ঞান এবং যোগ্যতায় মনে করতেন যে তাদের স্ত্রীরা তাদের অবাধ্যতা করছে এবং তাদেরকে প্রহার করতেন, তাহলে সেটা কি কখনও শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে যেত?

অনেক স্ত্রী আছেন যাদের সম্পত্তি, শারীরিক সামর্থ্য স্বামীর থেকে বেশি। স্বামী দুর্বল, গরিব, মানসিকভাবে অসুস্থ হতে পারে।  তাদের বেলায়ও কি এই আয়াতটি প্রযোজ্য?

কু’রআনের নির্দেশ যে কোন পরিস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ সমাধান দেয়। কু’রআনের বাণী বিশেষ কোন গোত্র, সমাজ, পরিবার, মানুষের জন্য প্রযোজ্য নয়, বরং যে কোন পরিস্থিতিতে, যে কোন সমাজ, সংস্কৃতি, যুগের মানুষের জন্য প্রযোজ্য। তাই ৪:৩৪ এর প্রচলিত অনুবাদ যদি যে কোন সময়ে, যে কোন দেশে, যে কোন সংস্কৃতিতে সবার জন্য প্রযোজ্য না হয়, তবে ধরে নিতে হবে আমরা তার ভুল উপলব্ধি করেছি, আল্লাহ ভুল করেন নি।

৪:৩৪ যে স্ত্রীদেরকে প্রহার করতে বলে না বরং আলাদা করে দিতে বলে তার সমর্থনে ঠিক এর পরের আয়াতটি ৪:৩৫ দেখুনঃ

আর যদি তোমরা(২+) তাদের দুজনের মধ্যে বিচ্ছেদের আশঙ্কা কর, তাহলে পুরুষের পক্ষ/পরিবার থেকে একজন মধ্যস্থতাকারী এবং স্ত্রীর পক্ষ/পরিবার থেকে একজন মধ্যস্থতাকারী নিযুক্ত কর। যদি তারা উভয়ে (মধ্যস্থতাকারী) মিটমাট করতে চায়, তাহলে আল্লাহ তাদের দুজনের মধ্যে মিটমাটের ব্যবস্থা করে দিবেন।  নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞানী, সবকিছু সম্পর্কে অবগত। (৪:৩৫)

স্বামী যদি স্ত্রীকে প্রহার করেই সমস্যার সমাধান করতে পারে, তাহলে কি দরকার এত কষ্ট করে দুই পক্ষ থেকে মধ্যস্থতাকারী এনে সালিস করার? স্ত্রীদেরকে প্রহার করে বশ করিয়ে রাখলেই তো হল।

লক্ষ্য করুন ৪:৩৪ এর প্রেক্ষাপটটা কি? স্ত্রী স্বামীর সাথে একমত নয়। স্ত্রী প্রকাশ্য অন্যায় করেছে। স্বামী তাকে সংশোধন করার জন্য মুখে বলেছে। তাতে কাজ হয়নি। তারপর বিছানা/ঘর আলাদা করে দিয়েছে। তাতেও কাজ হয় নি। স্ত্রীর অবস্থা নিচের যে কোন একটিঃ

  • স্ত্রী মনে করে সে যা করছে তা ঠিক, স্বামী ভুল।
  • স্ত্রী ইচ্ছাকৃত ভাবে জেনে শুনে অন্যায় করছে কারণ ক) স্ত্রী বিশেষ কোন উদ্দেশ্য স্বামীর বিরুদ্ধাচারন করতে চায়, বা খ) স্ত্রী চারিত্রিকভাবে খারাপ।

৪:৩৪ এ ن ش ز নুসুজ ব্যবহার করা হয়েছে যার অর্থ ইচ্ছাকৃত অবাধ্যতা, বিরোধিতা, বিদ্রোহচারণ। এই পরিস্থিতিতে স্বামী যদি স্ত্রীকে প্রহার করে, তবে কি কোন শান্তিপূর্ণ সমাধান হবে? বরং তা শারীরিক সংঘাতের দিকে যেতে পারে।

কু’রআন ৬৬:৩-৫ একটি ঘটনার কথা বলে যেখানে নবী মুহম্মদের(আ) স্ত্রীদের একজন কোন একটি গোপন ব্যপার প্রকাশ করে দিয়েছিল, যা আল্লাহ নবীকে কোনভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন। আল্লাহ এই তিনটি আয়াতে এই ধরনের গুরুতর অবাধ্যতার শাস্তি হিসেবে নবীকে কি বলেছিলেন যে তার স্ত্রীকে প্রহার করতে? তিনি বলেছেন, স্ত্রীকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেতে হবে (স্বামীর কাছে নয়)। কিন্তু যদি তারা তা না করে নবীর বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ হয়, তাহলে নবী তাদেরকে তালাক দিবেন।

ধর্মের মত একটি আবশ্যিক ব্যপারে কোন জবরদস্তি নেই।

ধর্মের ব্যপারে কোন জবরদস্তি নেই। নিশ্চয়ই সঠিক পথ/বিচার স্পষ্টভাবে আলাদা হয়ে গেছে মিথ্যা/ভুল থেকে। তাই যে তাগঘুতে   অবিশ্বাস করে এবং আল্লাহকে বিশ্বাস করে, সে মজবুত অবলম্বন/হাতল ধরেছে, যা ভাঙবে না। আর আল্লাহ সব শোনেন, সব জানেন।  (২:২৫৬)

মানুষকে আল্লাহর প্রতি অনুগত করার জন্য কোন জবরদস্তি করা যাবে না, প্রহার করাতো দুরের কথা। সেখানে কিভাবে স্বামীর প্রতি অনুগত না হলে স্ত্রীদেরকে জবরদস্তি এবং প্রহার করা যাবে? স্বামীর প্রতি অনুগত হওয়া কি আল্লাহর প্রতি অনুগত হওয়া থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

সুতরাং আমি কয়েকটি কারণ দেখাতে পারি কেন ৪:৩৪ আয়াতে দা-রা-বা অর্থ প্রহার না হয়ে আলাদা করা হবেঃ

  • যে ১১টি আয়াতে দা-রা-বা অর্থ আঘাত/প্রহার করা হতে পারে তাদের মধ্যে একমাত্র এই আয়াতে দা-রা-বা এর পর ‘কিভাবে’ বা ‘কোথায়’ আঘাত করতে হবে তা বলা নেই। একমাত্র ৪:৩৪ ব্যতিক্রম হতে পারে না।
  • এই ১১টি আয়াত বাদে দা-রা-বা অর্থ ‘প্রহার’ বাকি কমপক্ষে ৩০টি আয়াতে সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত।
  • দা-রা-বা এর সর্বাধিক ব্যবহার ‘উদাহরন/প্রতীক/দৃষ্টান্ত দেওয়া’ যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আল্লাহ মানুষকে কোন কিছু উপলব্ধি করানোর জন্য ব্যবহার করেছেন। এই অর্থটিও স্ত্রীকে আলাদা করে দেওয়া সমর্থন করে কারণ আলাদা হয়ে যাওয়াটা স্বামী-স্ত্রীর উভয়ের জন্য একটি ‘দৃষ্টান্তমূলক’ কাজ।
  • ৪:৩৪-৩৫ এই দুটি আয়াতে যে ধারাবাহিকতা রয়েছে তা ‘প্রহার’ অর্থ করলে ভেঙ্গে যায়। বরং প্রথমে সাবধান করা, তারপর বিছানা আলাদা করা, তারপর দৃষ্টান্তমূলক কিছু করা/আলাদা হয়ে যাওয়া, এবং সবশেষে তালাক দেওয়া – ধারাবাহিকতা ঠিক রাখে।
  • স্ত্রীদেরকে প্রহার করা ২:২৩১ এবং ৬৬:৩-৫ সমর্থন করে না।
  • যে কোন যোগ্যতার স্বামী তাদের স্ত্রীদেরকে প্রহার করলে সবসময় শান্তিপূর্ণ সমাধান হবে না। বরং তা শারীরিক সংঘাতে পরিণত হতে পারে। সবসময় শান্তিপূর্ণ সমাধান না হলে তা আল্লাহর বাণী হতে পারেনা।

তাই ৪:৩৪ এর শুধতর অনুবাদ হবেঃ

পুরুষরা নারীদের সংরক্ষণকারী [ভরণপোষণকারী] কারন আল্লাহ পুরুষদের কয়েকজনকে অন্যদের(নারী/পুরুষ) থেকে বেশি দিয়েছেন [অনুগ্রহ করেছেন, সন্মানিত করেছেন], এবং তারা(পু) নিজেদের সম্পত্তি থেকে খরচ করে। আর নীতিবান নারীরা আল্লাহর প্রতি অত্যন্ত অনুগত [ধর্ম প্রাণ, আন্তরিক, অনুগত], গোপন ব্যাপারগুলো গোপন রাখে যা আল্লাহ তাদেরকে রক্ষা করতে বলেছেন। আর তাদের(স্ত্রী) মধ্যে যাদেরকে তোমরা(পু) অসদাচারনের [দুর্ব্যবহার, ঘৃণা, অন্যায় আচরণ, বিদ্রোহাচারণ, খারাপ ব্যবহার] ভয় কর, তাদেরকে(স্ত্রী) তোমরা(পু) সতর্ক কর [উপদেশ, সাবধান, পরিণাম জানানো], তারপর তাদেরকে(স্ত্রী) তোমরা(পু) বিছানায় [শোবার ঘরে] ত্যাগ কর, এবং সবশেষে তাদেরকে(স্ত্রী) তোমরা(পু) আলাদা করে দাও/দৃষ্টান্ত দাও। তবে যদি তারা(স্ত্রী) তোমাদের(পু) সম্মতি দেয়, তাদের(স্ত্রী) বিরুদ্ধে কিছু করবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবার উপরে, মহান। (৪:৩৪)

এই আয়াতটি থেকে স্বামীর দায়িত্বের পর্যায়গুলো পরিস্কার হয় – যখন স্বামী, স্ত্রীর কাছ থেকে প্রকাশ্য অন্যায়/নীতিবিগর্হিত কাজের ভয় করবে, তখন ১) তাদেরকে বোঝাতে হবে, যদি তাতে না হয়, ২) তাদেরকে বিছানায় আলাদা করে দিতে হবে, যদি তাতে না হয়, ৩) তাদের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যেতে হবে কিছু সময়ের জন্য, যদি তাতে না হয়, ৪) দুই পক্ষ থেকে মধ্যস্থতাকারী এনে সালিসের ব্যবস্থা  করতে হবে, যদি তাতে না হয় ৫) তালাক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে কু’রআনে নির্ধারিত নিয়ম অনুসারে।

শুধু এ পর্যন্তই নয়, বিছানায় ত্যাগ করার নির্দেশটি দেওয়া হয়েছে পুরুষকে, নারীকে নয়। এর অর্থ পুরুষ অন্য বিছানায়/ঘরে চলে যাবে, নারী তার আগের নির্ধারিত বিছানায়/ঘরে থাকবে। কু’রআনের বাণী যে কতটা শান্তি প্রিয়, এবং নারীর নিরাপত্তার প্রতি কতখানি গুরুত্ব দেয়, তা আবারও প্রমাণিত হয়।

এখানে আরেকটি লক্ষ্য করার ব্যপার হল ৪:৩৪ আয়াতের প্রেক্ষাপট হচ্ছে যখন স্বামী স্ত্রীর কাছ থেকে কোন প্রকাশ্য অন্যায়ের ভয় করে। অর্থাৎ স্ত্রী যে অন্যায় করেছে তা এখনও প্রমাণিত হয় নি, বা স্ত্রীর অন্যায় করাটা এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। স্বামী যদি স্ত্রীর অন্যায় করার ভয় করেই স্ত্রীকে প্রহার করা শুরু করে, তবে তা অত্যন্ত অযৌক্তিক। তাই প্রচলিত অনুবাদগুলো যে ব্যপক ভাবে মধ্যযুগীয় আরব সংস্কৃতি এবং পুরুষতান্ত্রিক চিন্তা ভাবনা দ্বারা প্রভাবিত তা পরিস্কার বোঝা যায়। সেটা কোনোভাবেই মহান আল্লাহর বাণী নয়।

সুত্রঃ

  • কু’রআনের অনুবাদঃ লালেহ বখতিয়ার,
  • কু’রআনের অনুবাদঃ ইদিপ ইয়ুক্সেল,
  • Book: Wife Beating in Islam, Quran Strikes Back,
  • Quran434.com

About Omar AL Zabir

My blog on .NET performance and scalability and production challenges at: http://omaralzabir.com কু'রআনকে গভীরভাবে ভালবাসি। সত্যকে জেনে, নিজের জীবনে তা বাস্তবায়ন করে অন্যদেরকে অনুপ্রেরণা দেবার চেষ্টা করি। http://blog.omaralzabir.com
This entry was posted in কু'রআন, বিতর্কিত. Bookmark the permalink.

17 Responses to স্বামী কি স্ত্রীকে মারতে পারবে?

  1. Ishtiaque Hussain says:

    আমি গতকালই বোধহয় আমার স্ত্রী-কে মজা করে বলছিলাম- “জানো তো, তোমাকে ‘হালকা প্রহার’ করার অধিকার আমার আছে”!! খুব ভালো, গবেষনাধর্মী লেখা। অনেক ধন্যবাদ।

  2. I had qualm in my heart about this for a long time. So many people tried to ridicule my belief with this one area. I never could believe the translations, I couldn\’t believe my religion which is so peaceful, benevolent, logical can be this much controvarsial, i always felt, something is wrong in the translation. Masha\’allah for this article I know now I had my belief all right. It is as peaceful and benevolence as I was taught. Thank you so much for sharing this. It contributed greatly for my peace of mind and my belief.

  3. breakingbad says:

    One simple question: Why there is no ayat for the other way around ? I mean replacing the word “wife” with “husband”. What do you make of it ?

    • Because men and women are not equal. Islam does not require women to be supporters for men. Men has to pay all expenses – bills, children’s education, women’s daily expenses etc. There’s no binding on women to pay for any expenses. In fact as per Islamic Legal rules, women are not even bound to take care of the family. There’s nothing men can do if women do not take care of the family and wants to engage servants to do all the job. Women is not required to fight, does not have to go to war, do nasty jobs like clean sewerage, become construction workers and so on. Men has to do all those nasty, physically challenging jobs.

      Men and women have different qualities, role and responsibilities and thus difference in them requires different guidance.
      The verse 4:128 explains the situation when men is the troublemaker instead of women and what women should do in that situation.

  4. Md. Kamrul Alam says:

    আসসালামু আলাইকুম,

    ভাইয়া, English Translation গুলোতেও কি সঠিক word ব্যবহার করা উচিত না? Most of the English Translation they used “BEAT THEM”.

    http://tanzil.net/#trans/en.sahih/4:34

    Sohih International:
    …. …. …. forsake them in bed; and [finally], strike them. … … … [Ayat: 34]

    Ahmed Reza Khan:
    … … … (at first) advise them and (then) do not cohabit with them, and (lastly) beat them… …. … [Ayat: 34]

    Arberry:
    …. … … banish them to their couches, and beat them. … … … [Ayat: 34]

    Asad:
    … … … admonish them [first]; then leave them alone in bed; then beat them … … … [Ayat: 34]

    Yusuf Ali:
    … … … admonish them (first), (Next), refuse to share their beds, (And last) beat them (lightly); … … … [Ayat: 34]

    Zajakhallah.

    • Some recent ones do. Not all translators have revised their translation from the research yet. Especially the ones before year 2000 haven’t even noticed this. As this finding goes mainstream, hopefully the translators who are still alive will revise their translations and future translators will adopt the changes.

      Dr. Laleh Bakhtiar
      … And those females whose resistance you fear, then admonish them (f) and abandon them (f) in their sleeping places and go away from them (f). …

      Progressive Muslims
      …As for those women from whom you fear a desertion, then you shall advise them, and abandon them in the bedchamber, and separate from them; …

      Reformist Translation
      …As for those women from whom you fear disloyalty, then you shall advise them, abandon them in the bedchamber, and separate them; …

  5. Realize The Truth says:

    Instead of twisting and distorting the meaning of these lines according to what you want, realize the fact that Koran was a book written by a 1400 year old savage and reflects their culture and beliefs, which are fundamentally incompatible with a modern and civilized society.

    • It is unlikely a savage living 1400 ago would know – universe is continously expanding (51:47), life is created from water (21:30), heaven and earth was joined together and was separated by great force (21:30), life began from hydrated inorganic matter (32:7), everything is made in pairs – matter and antimatter (51:49), fire burns because of oxygen produced from green leaf (36:80), atmosphere reflects (86:11), there are submerged waves inside ocean (24:40) and 200+ other scientific discoveries that we have only discovered in 20th century.

      So, it is best if you get some understanding about what you are talking about and we can discuss about facts when you are properly trained.

    • Julkar says:

      Quran was sent for all ages & for all kind of people. Thats why it is the last revelation…..

  6. Forhad says:

    SubhanAllah .. 🙂 I pray for your more contribution. 🙂

  7. Yaser Arafat says:

    Very nice article. I too have a lot of confusion regarding various issues in The Quran and am doing a little bit of research myself. Can you give me some more details about the various translations of The Quran you mentioned, e.g. by Muhammed Shaker, Abdel Halim etc, and where can I get them? Also if possible the links for the English translation as well. Thanks.

  8. Nuzhat says:

    Awesome piece of work, really well explained.
    JzK, looking forward to more from you inshaAllah.

  9. TuTuL says:

    Dear Brother,

    Thank you for sharing details post on the subject. Btw, could you please let me know which is the best translated Quran into Bangla available in the market at Dhaka? I am looking to buy one.

    Please advise!

ভালো লেগেছে? কোন প্রশ্ন? কোন আপত্তি?

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s