আমার কাজে লাগবে এমন কিছু কু’রআনে আছে কি?

কু’রআন সম্পর্কে একটি প্রচলিত ধারণা হল এটি একটি উচ্চ মর্গের ধর্মীয়, নৈতিক, ঐতিহাসিক বই, যাতে মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় বড়, জটিল ব্যপারগুলোই শুধুমাত্র বলা আছে। দৈনন্দিন জীবনে কাজে লাগে এমন সাধারণ ব্যপারগুলোর জন্য কু’রআন নয়। যেমন আমরা কিভাবে কথা বলব, কিভাবে বেড়াতে যাবো, কি ধরণের কাপড় পড়ব – এসব খুঁটিনাটি ব্যপারের জন্য কু’রআন নয়। এই ধারণার কারণে অনেকেই কু’রআন থেকে না শিখে আনুষঙ্গিক ধর্মীয় বই, মনীষীর জীবনী ইত্যাদি পড়ে নানা ধরণের বিতর্কিত উপদেশ শিখে বিভ্রান্ত হয়ে নিজের, পরিবারের, সমাজের ক্ষতি ডেকে আনে; যেখানে কিনা স্বয়ং আল্লাহ আমাদেরকে শিখিয়েছেনঃ

  • কথা বলার সময় সবচেয়ে মার্জিত শব্দ ব্যবহার করবে এবং সবচেয়ে সুন্দর ভাবে কথা বলবে – ২:৮৩।
  • কোন ভণিতা না করে, ধোঁকা না দিয়ে, যা বলতে চাও পরিস্কার করে বলবে – ৩৩:৭০।
  • চিৎকার করবে না, কর্কশ ভাবে কথা বলবে না, নম্র ভাবে কথা বলবে – ৩১:১৯।
  • মনের মধ্যে যা আছে সেটাই মুখে বলবে– ৩:১৬৭।
  • ফালতু কথা বলবে না এবং অন্যের ফালতু কথা শুনবে না। যারা ফালতু কথা বলে, অপ্রয়োজনীয় কাজ করে সময় নষ্ট করে তাদের কাছ থেকে সরে যাবে – ২৩:৩, ২৮:৫৫।
  • কাউকে নিয়ে উপহাস করবে না, টিটকারি দিবে না, ব্যঙ্গ করবে না – ৪৯:১০।
  • অন্যকে নিয়ে খারাপ কথা বলবে না, কারো মানহানি করবে না – ৪৯:১০।
  • কাউকে কোন বাজে নামে ডাকবে না। – ৪৯:১০।
  • কারো পিছনে বাজে কথা বলবে না – ৪৯:১২।
  • যাদেরকে আল্লাহ বেশি দিয়েছেন, তাদেরকে হিংসা করবে না, সে যদি তোমার নিজের ভাই-বোনও হয় – ৪:৫৪।
  • অন্যকে কিছু সংশোধন করতে বলার আগে অবশ্যই তা নিজে মানবে। কথার চেয়ে কাজের প্রভাব বেশি – ২:৪৪।
  • কখনও মিথ্যা কথা বলবে না – ২২:৩০।
  • সত্যকে মিথ্যা দিয়ে ঘোলা করবে না এবং জেনে শুনে সত্য গোপন করবে না – ২:৪২।
  • যদি কোন ব্যপারে তোমার সঠিক জ্ঞান না থাকে, তাহলে সে ব্যপারে মুখ বন্ধ রাখো। তোমার মনে হতে পারে এসব সামান্য ব্যপারে সঠিকভাবে না জেনে কথা বললে অত সমস্যা নেই। কিন্তু তুমি জানো না সেটা হয়ত আল্লাহর কাছে কোন ভয়ঙ্কর ব্যপার – ২৪:১৪, ২৪:১৬।
  • মানুষকে অত্যন্ত বিচক্ষণভাবে, মার্জিত কথা বলে  আল্লাহর পথে ডাকবে। তাদের সাথে অত্যন্ত ভদ্র, শালীনভাবে যুক্তি তর্ক করবে – ১৬:১২৫।

ব্যবহার

  • মার্জিত পোশাক পড়বে, সুন্দর আচরণ করবে – ৭:২৬।
  • মার্জিত পোশাক পরে প্রার্থনা করবে, সেটা যেখানেই হোক না কেন – ৭:৩১।
  • দরকারের বেশি খাবার খাবে না, পান করবে না – ৭:৩১।
  • নিজেই নিজের গুণ জাহির করে অন্যকে মুগ্ধ করার চেষ্টা করবে না – ৫৩:৩২।
  • কারো সাথে ফুটানি করবে না, নিজেকে নিয়ে গর্ব করবে না– ৩১:১৮।
  • দেমাক দেখিয়ে চলা ফেরা করবে না – ১৭:৩৭।
  • তাড়াহুড়া করবে না, ধীরে সুস্থে চলাফেরা করবে – ৩১:১৯।
  • বিনয়ের সাথে চলাফেরা করবে – ২৫:৬৩।
  • বেশি সন্দেহ করবে না, কিছু সন্দেহ আছে যেটা করা গুনাহ। আন্দাজে ঢিল মারবে না। একে অন্যের উপর গুপ্তচরগিরি করবে না – ৪৯:১২।
  • কাউকে জিজ্ঞেস না করে এবং সুন্দর সম্ভাষণ না জানিয়ে তার ঘরে কখনও ঢুকে পরবে না – ২৪:২৭।
  • কারো সাথে দেখা হলে তাকে সুন্দরভাবে সম্ভাষণ জানাবে, সালাম দিবে। কেউ তোমাকে সম্ভাষণ জানালে তাকে তার থেকে আরও ভালভাবে সম্ভাষণ জানাবে, সালাম দিবে। যদি সেটা না পারো, অন্তত সে যেভাবে জানিয়েছে, সেভাবে জানাবে – ৪:৮৬।
  • যখন তুমি নিজের ঘরে আসবে বা অন্য কারো ঘরে যাবে, ঘরে যারা আছে তাদেরকে সুন্দর সম্ভাষণ জানাবে এবং তাদের জন্য আল্লাহর কাছে কল্যাণ কামনা করবে – ২৪:৬১।
  • কেউ ভুলে দোষ করে ক্ষমা চেলে এবং নিজেকে সংশোধন করলে তাকে আগ্রহ নিয়ে, কোন রাগ চেপে না রেখে ক্ষমা করে দিবে – ৬:৫৪, ৩:১৩৪।
  • অজ্ঞ, বর্বর, বিপথগামী লোকজন অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা, খামোখা যুক্তিতর্ক করতে গেলে তাদেরকে সালাম/শান্তি বলে সরে যাবে– ২৫:৬৩।

নৈতিকতা

  • নিজেকে এবং নিজের পরিবারকে আগে ঠিক কর, অন্যদেরকে ঠিক করার আগে – ৬৬:৬।
  • কারো কোন উপকার করলে তা তাকে বার বার মনে করিয়ে দিয়ে কষ্ট দিবে না – ২:২৬২।
  • কারো উপকার করলে তার বিনিময়ে তার কাছ থেকে কোন উপকার, এমনকি ধন্যবাদও আশা করবে না – ৭৬:৯।
  • কাউকে কথা দিলে অবশ্যই কথা রাখবে। তোমার প্রত্যেকটা অঙ্গীকারের ব্যপারে তোমাকে জিজ্ঞেস করা হবে – ১৭:৩৪।
  • যারা ভালো কাজ করছে তাদেরকে ভালো কাজে সাহায্য করবে, উৎসাহ দিবে, তাদের সাথে ভালো কাজে যোগ দিবে। যারা খারাপ কাজ করে তাদেরকে কোন ধরণের সাহায্য করবে না – ৫:২।
  • যারা ফাজলেমি, ছ্যাবলামি করে তাদের কাছ থেকে নিজের মান বজায় থাকতে সরে যাবে – ২৫:৭২।
  • নোংরামি, অশ্লীল কাজের ধারে কাছেও যাবে না, সেটা গোপনে হোক আর প্রকাশ্যে – ৬:১৫১।
  • বিপরীত লিঙ্গের প্রতি দৃষ্টি নত রাখো, কাম দৃষ্টি নিয়ে তাকাবে না, একপলকের জন্যও নয় – ২৪:৩০, ২৪:৩১, ৪০:১৯।
  • কারো সম্পর্কে খারাপ কিছু শুনলে তার সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখো যতক্ষণ পর্যন্ত না তুমি তার সম্পর্কে সঠিক তথ্য না পাচ্ছ। অন্যদেরকে নির্দোষ হিসেবে নিবে যতক্ষণ না তার দোষ প্রমাণিত হয় – ২৪:১২।
  • দুষ্ট, পাজি কেউ তোমাকে কোন খবর দিলে সেটা ভালো করে যাচাই করে নিশ্চিত হও যাতে করে তুমি এমন কিছু করে না ফেল যার জন্য তোমাকে পরে পস্তাতে হয় – ৪৯:৬।
  • তোমার যা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান নেই তা অন্ধ অনুসরণ করবে না কারণ আল্লাহর আদালতে তোমার দৃষ্টি, শ্রবণ এবং বিচার-বুদ্ধি এই সব কিছুর বিচার করা হবে – ১৭:৩৬।
  • যারা আল্লাহর বাণীকে গুরুত্ব দেয় না, তা নিয়ে অবহেলা করে, হাসি ঠাট্টা করে তাদের কাছ থেকে সরে যাবে – ৬:৭০। যতক্ষণ না তারা অন্য প্রসঙ্গে কথা না বলে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের সাথে বসবে না, যাতে করে তুমিও তাদের মত হয়ে না যাও – ৪:১৪০।
  • পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকবে – ৯:১০৮, ৪:৪৩, ৫:৬।
  • ঘুষ খাবে না এবং ঘুষ দিবে না – ২:১৮৮।
  • অন্যের টাকা-পয়সা, সম্পত্তি জেনে শুনে অন্যায় ভাবে দখল করবে না – ২:১৮৮।
  • নিজের সম্পত্তি অন্যায় ভাবে ভোগ করবে না – ২:১৮৮।
  • অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, সংস্থানের জন্য যাদের আনুগত্য করছ তাদের কোন ক্ষমতাই নেই তোমাকে কিছু দেবার, শুধুমাত্র আল্লাহর কাছে চাও– ২৯:১৭।

পারিবারিক ও আত্মীয় সম্পর্ক

  • খাবারের দাওয়াত পেলে যখন যেতে বলেছে, তখনই যাবে, বেশি আগে যাবে না। খাওয়া হয়ে গেলে দেরি না করে চলে আসবে, যাতে তাদের অসুবিধা না হয় – ৩৩:৫৩।
  • কথা বলার সময় কারও পক্ষপাতিত্ব করবে না, সেটা যদি নিকট আত্মীয়ের বিরুদ্ধেও হয় – ৬:১৫২।
  • বাবা-মার সাথে সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক রাখবে, ব্যবহার করবে – ৪:৩৬।
  • কাছের আত্মীয়দের সাথে ভালো সম্পর্ক রাখবে – ৪:৩৬।
  • এতিম, এবং অভাবী মানুষদেরকে সাহায্য করবে – ৪:৩৬।
  • বন্ধু এবং প্রতিবেশীদের সাথে সুন্দর সম্পর্ক রাখবে – ৪:৩৬।
  • বিপদে পড়া পথিক-যাত্রীদেরকে সাহায্য করবে – ৪:৩৬।
  • যারা তোমার অধীনে কাজ করে এবং দাস-দাসি বা কাজের লোকদের সাথে সুন্দর ব্যবহার করবে – ৪:৩৬।

সাম্য

  • জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, যোগ্যতা নির্বিশেষে সব মানুষকে সন্মান কর – ১৭:৭০।
  • জাতি, বর্ণ, ভাষা, যোগ্যতা নির্বিশেষে বিশ্বাসীরা সবাই ভাই-ভাই, বোন-বোন। তোমরা সবাই একই পরিবারের সদস্যর মত একে অন্যের ভাই-বোন হিসেবে থাকবে – ৪৯:১০।
  • তোমাদের জীবনে অন্যের জন্য জায়গা রাখবে– ৫৮:১১।

কু’রআনের একটি আয়াত দিয়ে শেষ করিঃ

… আমরা তোমাকে (মুহম্মদ) কিতাবটি পাঠিয়েছি সব কিছু পরিস্কার করে বর্ণনা করে; যারা আল্লাহর প্রতি অনুগত (মুসলিম) তাদের জন্য পথ প্রদর্শক, অনুগ্রহ ও সুসংবাদ হিসেবে। (১৬:৮৯)

সালাম।

About Omar AL Zabir

My blog on .NET performance and scalability and production challenges at: http://omaralzabir.com কু'রআনকে গভীরভাবে ভালবাসি। সত্যকে জেনে, নিজের জীবনে তা বাস্তবায়ন করে অন্যদেরকে অনুপ্রেরণা দেবার চেষ্টা করি। http://blog.omaralzabir.com
This entry was posted in উপলব্ধি, কু'রআন. Bookmark the permalink.

7 Responses to আমার কাজে লাগবে এমন কিছু কু’রআনে আছে কি?

  1. Kanij Fatema says:

    Salam Bhaiya , can you provide me any link where I can get proper translation of The Quran. I prefer Bangali but if the readability is good English is also fine.Thank you:)

    • আমার সবচেয়ে পছন্দের অনুবাদ আব্দেল হালিমের অনুবাদঃ
      http://asadullahali.files.wordpress.com/2010/09/the_quran.pdf

      আব্দেল হালিমকে আরবিতে এযুগের সবচেয়ে বড় পণ্ডিত মানা হয়। ৯০ বছর বয়স্ক এই মহান মানুষটি ২০ বছর সময় নিয়ে এই অনুবাদ করেছেন। তাঁর অনুবাদ এযাবতকালের সবচেয়ে শুদ্ধ ইংরেজি অনুবাদ।

  2. mahfuz says:

    উপরোক্ত উপদেশাবলীর জন্য কোরান না পড়েও তো পাওয়া যায়। সাধারণ বিবেকবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের মনে ওগুলো এমনিতেই জাগ্রত হতে পারে।

    • সবাই পারে না। একজন ঘুষ খোরের মাথায় এর অনেক গুলোই কোনদিনও আসবে না। একজন সিরিয়াল চাপাবাজের মাথায় এর বেশিরভাগ ধারণা কোন দিন আসে না দেখেই সে দিনের পর দিন চাপাবাজি করে যাচ্ছে।
      মনে রাখবেন, কু’রআন হচ্ছে, জিকর – রিমাইন্ডার। মানুষকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছিল ফিতরা দিয়ে। ফিতরা হচ্ছে মানুষের মধ্যে বিল্ট ইন সত্য এবং ভালো গুণ। কিন্তু বাবা-মা, পরিবেশের প্রভাবে মানুষের সেই ফিতরা নষ্ট হয়ে মানুষ খারাপ হয়ে যায়। কু’রআন হচ্ছে মানুষের জন্য রিমাইন্ডার সেই ফিতরাকে ফিরিয়ে আনার জন্য।
      দ্বিতীয়ত, কু’রআনে না থাকলে আমরা জানবো কি করে কোনটা অত্যাবশ্যকীয়, কোনটা না করলেও ক্ষতি নেই। যেমন ধরুন বড় কাউকে দেখলেই দাঁড়িয়ে পড়তে হবে – এটা একটা সাংস্কৃতিক ব্যপার, কু’রআনে এটা অত্যাবশ্যকীয় নয়।

      • Kanij Fatema says:

        I think every individual have different scenario in there life , though we have our senses but we get diverted by the Satan , also if anyone want to do something different there are many people who will always try to mislead , so its very necessary to know the Quran , so that we can judge ourselves instead of getting judged by others. Human are vulnerable and gets easily over confident , even for being acted as over religious. To save us from all these little but dangerous scenarios every individual should read the Quran.

      • mahfuz says:

        দ্বিতীয়ত, কু’রআনে না থাকলে আমরা জানবো কি করে কোনটা অত্যাবশ্যকীয়, কোনটা না করলেও ক্ষতি নেই।

        আপনার এই কথাটির পরিপ্রেক্ষিতে একটি বিষয় জানতে ইচ্ছে করে তা হলো- বাংলা ভাই কিম্বা শায়খ আব্দুর রহমান কিম্বা লাদেন কোন ধরনের অত্যাবশ্যকীয় বিষয় পেয়েছিলেন কোরান থেকে যার জন্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করেছিলেন? কারণ তারা তো কোরান খুব ভালো ভাবেই পড়েছিলেন, বুঝেছিলেন এবং উপলব্ধি করেছিলেন। কোরান পড়ে কেউ সুফী-সাধক-দরবেশ হয় আবার সেই একই কোরান পড়ে বাংলা ভাই, লাদেন হয়। এর কারণটি কী?

      • আল্লাহই এই সমস্যার উত্তর দিয়েছেনঃ
        it is He who has sent this Scripture down to you [Prophet]. Some of its verses are definite in meaning- these are the cornerstone of the Scripture- and others are ambiguous. The perverse at heart eagerly pursue the ambiguities in their attempt to make trouble and to pin down a specific meaning of their own: only God knows the true meaning. Those firmly grounded in knowledge say, ‘We believe in it: it is all from our Lord’- only those with real perception will take heed-
        http://quran.azurewebsites.net/3/7

        কু’রআন পড়ে ভুল বোঝার কারণ কয়েকটাঃ

        ১) অপ্রাসঙ্গিক ভাবে কোন একটা আয়াত পড়ে সেটাকে নিজের মতকে সমর্থন করার জন্য প্রচার করা। যেমনঃ
        When the [four] forbidden months are over, wherever you encounter the idolaters, kill them, seize them, besiege them, wait for them at every lookout post; but if they turn [to God], maintain the prayer, and pay the prescribed alms, let them go on their way, for God is most forgiving and merciful.
        http://quran.azurewebsites.net/9/5

        অনেকেই এই আয়াতটা পড়ে মনে করে, এইতো! কু’রআন বলে যেখানেই অমুসলিমদের পাবে, তাদেরকে মেরে ফেলবে! অথচ এর আগের ৫ টা আয়াতটা পড়লেই বোঝা যায় যে এই নির্দেশটা হচ্ছে তাদের জন্য যারা মুসলিমদের সাথে শান্তি চুক্তি করেও বার বার সেটা ভেঙ্গে ছিল বরং উলটো মুসলিমদের আক্রমণ করেছিল।

        ২) মানুষ প্রাচীন আরবি না শিখে বিভিন্ন ধরণের ভুল অনুবাদ পড়ে বিভ্রান্ত হয়ে যায়। কু’রআন নিয়ে ইন্টারনেটে হাজার হাজার আর্টিকেল আছে যেগুলো প্রমাণ করার চেষ্টা করে কু’রআনে বৈজ্ঞানিক ভাবে ভুল তথ্য দেওয়া আছে, কু’রআনের এক আয়াতের সাথে অন্য আয়াত মিলে না ইত্যাদি। যারা কু’রআনের আরবি জানে তারা বোঝে এই অভিযোগগুলো কত হাস্যকর। মানুষ কিছু ইংরেজি, ফার্সি, বাংলা অনুবাদ পড়ে মনে করে তারা কু’রআন ঠিকভাবে বুঝে গেছে এবং অনুবাদের উপর ভিত্তি করে কু’রআন নিয়ে গবেষণা শুরু করে দেয়। কু’রআনের কোন অনুবাদ কু’রআন নয়, বরং সেটা অনুবাদক কু’রআন পড়ে কি বুঝেছেন সেটার একটা বই। আমরা যখনি কোন অনুবাদ পড়ি আমাদের মনে রাখতে হবে সেটা কু’রআন পড়ে অনুবাদক কি বুঝেছেন এবং আমাদেরকে কি বোঝাতে চেয়েছেন শুধু সেটাই পড়ছি, সেটা আল্লাহর বাণী নয়। হয়তো সেটা ৮০% আল্লাহর বাণী, কিন্তু কখনই ১০০% নয়।

        ৩) তৃতীয় সমস্যা হচ্ছে কিছু মানুষ মনে করে তারা কু’রআন পড়ে রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক জটিল ব্যপারগুলো নিয়ে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এইসব মানুষদের Economy, Politics, Sociology, Psychology এসব কোন কিছুতেই জ্ঞান নেই। কিন্তু তারা মনে করে তারা আল্লাহর পাঠানো বাণী পড়ে সবচেয়ে ভালো ভাবে বুঝে, সঠিক উপলব্ধি করে নিজেরাই দেশ চালাতে পারবে। পৃথিবীতে যে হাজার হাজার বিষয়ভিত্তিক পণ্ডিত আছে, তাদের সাথে কোন আলোচনা করার প্রয়োজন তারা মনে করে না, কারণ তারা ভালো করেই জানে তাদের বোঝায় অনেক ফাঁক আছে। এসব মানুষদের উদ্দেশ্য মানুষকে নিয়ে শান্তিতে থাকা নয়, তাদের আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে কোন মতে ক্ষমতায় গিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করে প্রতিশোধ নেওয়া, নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিল করা।

        সমস্যা হচ্ছে মানুষের ইগো। আর কিছু না।

ভালো লেগেছে? কোন প্রশ্ন? কোন আপত্তি?

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s