আল্লাহ কেন এরকম করলো? আল্লাহ থাকতে এসব হয় কিভাবে? – পর্ব ১

“আল্লাহ আমাকে কেন বানিয়েছে? আমি কি আল্লাহকে বলেছিলাম আমাকে বানাতে? আল্লাহ আমাকে পৃথিবীতে পাঠাবার আগে আমাকে জিজ্ঞেস করল না কেন আমি এরকম জীবন চাই কিনা?“

যারা এধরনের প্রশ্ন করে তাদেরকে আপনি যদি একটা যুক্তিযুক্ত উত্তর দেনও, সাথে সাথে তারা প্রশ্ন করবেঃ

“আল্লাহ কেন আমাকে এতো কষ্টের জীবন দিল, যেখানে অন্যরা কত শান্তিতে আছে? আমি কি বলেছিলাম আমাকে এতো কষ্ট দিতে?”

আপনি যদি ব্যাখ্যা করেন কিভাবে ক্যাপিটালিস্ট অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এমন ভাবে বানানো হয়েছে যে, কেউ ধনী হলে সে অন্য অনেক মানুষকে গরীব বানিয়ে ছাড়বেই, তখন তারা এই ধরণের প্রশ্ন করা শুরু করবেঃ

“আল্লাহ আমাকে মেয়ে বানালো কেন, আমিতো মেয়ে হতে চাইনি? আল্লাহ আমাকে কালো কিন্তু অন্যদেরকে ফর্সা বানাল কেন, এটা তো ঠিক হল না? আমি খাট কেন, লম্বা না কেন? আমার কপালে এরকম শয়তান স্বামী পড়ল কেন? আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ি, রোযা রাখি, কোনদিন ঘুষ খাইনি, কিন্তু তারপরেও আমার ক্যান্সার হল কেন?”

এই ধরনের “আমি, আমার, আমাকে” প্রশ্নগুলোর উত্তর পাবার পর তারা চলে যাবে আরও জটিল সব ঘটনায়ঃ

“সত্যিই যদি আল্লাহ থাকে তাহলে পৃথিবীতে এতো দুঃখ, কষ্ট কেন? মুসলমানরা কেন আজকে সবচেয়ে দুর্বল, পশ্চাদপদ, নিপীড়িত জাতি? সব টেররিস্টগুলো মুসলমান কেন? কেন ধর্মের নামে এতো খুনাখুনি, যুদ্ধ? আল্লাহ কেন শয়তানকে বানালো? শয়তান না থাকলে তো আমরা সবাই বেহেস্তে যেতে পারতাম। আল্লাহর মানুষ বানিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়ে এতো কষ্ট দেবার দরকার কি ছিল? সরাসরি মানুষকে বেহেস্তে পাঠালেই তো হয়ে যেত। আল্লাহ কি জানে না কে বেহেস্তে যাবে, কে দোযখে যাবে? তাহলে মানুষকে পৃথিবীতে পাঠিয়ে পরীক্ষা করার দরকার কি? আল্লাহ যদি জানেই আমি দোযখে যাবো তাহলে আমার আর ভালো কাজ করে লাভ কি? আল্লাহ যদি সত্যিই অতি দয়ালু হয় তাহলে দোযখ বানিয়ে মানুষকে এতো কষ্ট দিবে কেন? এই জীবনে অল্প কয়েক বছরের কিছু দোষের জন্য দোযখে এতো ভয়াবহ শাস্তি পেতে হবে – এটাতো অন্যায়।”

Continue reading

Posted in উপলব্ধি, বিতর্কিত | 29 Comments

গতকালকে প্রায় চার হাজার বাচ্চা মারা গেছে

গতকালকে প্রায় চার হাজার বাচ্চা মারা গেছে। শুধু তাই না, আজকে সকাল থেকে যতক্ষনে আপনি এই আর্টিকেলটা পড়বেন ততক্ষনে আরও হাজার খানেক বাচ্চা মারা গেছে এবং রাত হতে হতে মৃতের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে প্রায় চার হাজারে। আগামী কালকে আরও চার হাজার বাচ্চা তার বাবা-মার চোখের সামনে মারা যাবে – পেটের ব্যাথায় ছট ফট করতে করতে, বমি করতে করতে করতে।

প্রতিদিন গড়ে চার হাজার বাচ্চা মারা যায়। না খেয়ে নয়, অসুস্থতায় নয়, যুদ্ধে নয় – বরং ময়লা পানি খেয়ে।

শুধু তাই না, প্রতিদিন ১৬ হাজার বাচ্চা মারা যায় না খেতে পেয়ে। ক্ষুধায় মারা যেতে কেমন লাগে জানেন? একদিন সেহরি না করে সারা দিন রোজা রাখুন, দেখবেন মাত্র ১৮-২০ ঘণ্টা খেতে না পারার কষ্ট কতখানি। সেখানে এই বাচ্চাগুলো দু’দিন, তিনদিন, এমনকি চার দিন পর্যন্ত না খেতে পেরে ধুকে ধুকে কষ্টে মায়ের কোলে মারা যায়। মারা যাবার আগে একবার মা ডাকার মত শক্তিও তাদের থাকে না। সেই মা গুলোর শুধু তাকিয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না ।

আমরা কেমন করে এটা হতে দেই?

আমি আপনাদেরকে একটা পাথরের ঘটনা বলি। আমার অফিসের এক কলিগ, মুসলমান কলিগ। তাকে আমি একদিন এই ছবি গুলো দেখালাম, কিছু পরিসংখ্যান দেখালাম। তার প্রতিক্রিয়াঃ

Continue reading

Posted in উপলব্ধি | 3 Comments

আমার কাজে লাগবে এমন কিছু কু’রআনে আছে কি?

কু’রআন সম্পর্কে একটি প্রচলিত ধারণা হল এটি একটি উচ্চ মর্গের ধর্মীয়, নৈতিক, ঐতিহাসিক বই, যাতে মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় বড়, জটিল ব্যপারগুলোই শুধুমাত্র বলা আছে। দৈনন্দিন জীবনে কাজে লাগে এমন সাধারণ ব্যপারগুলোর জন্য কু’রআন নয়। যেমন আমরা কিভাবে কথা বলব, কিভাবে বেড়াতে যাবো, কি ধরণের কাপড় পড়ব – এসব খুঁটিনাটি ব্যপারের জন্য কু’রআন নয়। এই ধারণার কারণে অনেকেই কু’রআন থেকে না শিখে আনুষঙ্গিক ধর্মীয় বই, মনীষীর জীবনী ইত্যাদি পড়ে নানা ধরণের বিতর্কিত উপদেশ শিখে বিভ্রান্ত হয়ে নিজের, পরিবারের, সমাজের ক্ষতি ডেকে আনে; যেখানে কিনা স্বয়ং আল্লাহ আমাদেরকে শিখিয়েছেনঃ

  • কথা বলার সময় সবচেয়ে মার্জিত শব্দ ব্যবহার করবে এবং সবচেয়ে সুন্দর ভাবে কথা বলবে – ২:৮৩।
  • কোন ভণিতা না করে, ধোঁকা না দিয়ে, যা বলতে চাও পরিস্কার করে বলবে – ৩৩:৭০।
  • চিৎকার করবে না, কর্কশ ভাবে কথা বলবে না, নম্র ভাবে কথা বলবে – ৩১:১৯।
  • মনের মধ্যে যা আছে সেটাই মুখে বলবে– ৩:১৬৭।
  • ফালতু কথা বলবে না এবং অন্যের ফালতু কথা শুনবে না। যারা ফালতু কথা বলে, অপ্রয়োজনীয় কাজ করে সময় নষ্ট করে তাদের কাছ থেকে সরে যাবে – ২৩:৩, ২৮:৫৫।
  • কাউকে নিয়ে উপহাস করবে না, টিটকারি দিবে না, ব্যঙ্গ করবে না – ৪৯:১০।
  • অন্যকে নিয়ে খারাপ কথা বলবে না, কারো মানহানি করবে না – ৪৯:১০।
  • কাউকে কোন বাজে নামে ডাকবে না। – ৪৯:১০।
  • কারো পিছনে বাজে কথা বলবে না – ৪৯:১২।
  • যাদেরকে আল্লাহ বেশি দিয়েছেন, তাদেরকে হিংসা করবে না, সে যদি তোমার নিজের ভাই-বোনও হয় – ৪:৫৪।
  • অন্যকে কিছু সংশোধন করতে বলার আগে অবশ্যই তা নিজে মানবে। কথার চেয়ে কাজের প্রভাব বেশি – ২:৪৪।
  • কখনও মিথ্যা কথা বলবে না – ২২:৩০।
  • সত্যকে মিথ্যা দিয়ে ঘোলা করবে না এবং জেনে শুনে সত্য গোপন করবে না – ২:৪২।
  • যদি কোন ব্যপারে তোমার সঠিক জ্ঞান না থাকে, তাহলে সে ব্যপারে মুখ বন্ধ রাখো। তোমার মনে হতে পারে এসব সামান্য ব্যপারে সঠিকভাবে না জেনে কথা বললে অত সমস্যা নেই। কিন্তু তুমি জানো না সেটা হয়ত আল্লাহর কাছে কোন ভয়ঙ্কর ব্যপার – ২৪:১৪, ২৪:১৬।
  • মানুষকে অত্যন্ত বিচক্ষণভাবে, মার্জিত কথা বলে  আল্লাহর পথে ডাকবে। তাদের সাথে অত্যন্ত ভদ্র, শালীনভাবে যুক্তি তর্ক করবে – ১৬:১২৫।

Continue reading

Posted in উপলব্ধি, কু'রআন | 7 Comments

আমরা কেন কৃতজ্ঞ হই না

[এটি নওমান আলি খানের লেকচারেরবাংলা অনুবাদ]

ইনশাআল্লাহ আজকে আমি কুরআনের ১৪ নম্বর সুরা সম্পর্কে আলোচনা করব। এটি হল সুরা ইব্রাহিম। কুরআনে যে জাতি সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি বলা আছে, যা থেকে মুসলমানরা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে তারা হল মুসা (আ) এবং তার জাতি বনী ইসরাইল। ৭৫ ভাগের বেশি আয়াত মুসা (আ) এবং তার জাতির কথা। তাদের কথা কিন্তু বলা হয়নি নবী (সা) মদিনাতে হিজরত করার পরে, কারণ এই সুরাটি একটি মাক্কি সুরা। মুসা (আ) এবং তার জাতির উদাহরন দেওয়া হয়েছে একদম প্রথম দিকের মুসলমানদেরকে। এমনকি তাদের কথা আমাদের নবী (সা) এর জন্যও উদাহরণ হিসেবে কাজ করেছে, যা থেকে তিনি নিজেও শিক্ষা নিয়েছেন। এই সুরাটি শুরু হয়েছে-

كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ إِلَيْكَ لِتُخْرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ

“এটি একটি অসাধারন গ্রন্থ, যা আমি আপনার (মানে নবী(সা) এর) প্রতি নাযিল করেছি-যাতে আপনি মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন। তারা বিভিন্ন গভীরতার অন্ধকারের মধ্যে ডুবে আছে, তাদেরকে তা থেকে বের করে আনা হচ্ছে আপনার দায়িত্ব। এই হল আপনার কাজ”।

এর কিছু আয়াত পরে আরও বলা হয়েছে যে মুসা (আ) কেও একই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا مُوسَىٰ بِآيَاتِنَا

“আমি মূসাকে নিদর্শনাবলী সহ প্রেরণ করেছিলাম”

أَنْ أَخْرِجْ قَوْمَكَ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ

“যাতে করে আপনি আপনার জাতিকে বিভিন্ন গভীরতার অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে আসেন”।

Continue reading

Posted in উপলব্ধি, কু'রআন | 1 Comment

আমার কু’রআন পড়তে ভালো লাগে না

এই রমজানে আমি কু’রআনের উপর একটা কোর্স করছি যেখানে ৪ দিনে পুরো কু’রআনের মূল বিষয়গুলোর উপর একটা ধারণা দেওয়া হবে। প্রায় ৩০০ জন আগ্রহী শিক্ষাত্রী, যার মধ্যে ৯৫% তরুণ-তরুণী, সারা দিন রোযা রেখে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৬:৩০ পর্যন্ত কোর্সটা করছে, অলিম্পিক দেখা বাদ দিয়ে। আমাদের এখানে রোযা বাংলাদেশের মত মজার রোযা না। আমরা রাত তিনটার দিকে সেহরি খাই এবং ইফতার করি রাত নয়টার দিকে – ১৮ ঘণ্টার রোযা। এই চরম গ্রীষ্ম কালে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৮ ঘণ্টাই রোযা রেখে যারা ৪ দিন এই কোর্সটা করছে তারা আর কিছু না হোক, নিঃসন্দেহে চরম পর্যায়ের ঈমানের অধিকারী এবং নিশ্চয়ই দিন রাত কু’রআন পড়ে। তাই কোর্সের বিরতির ফাঁকে ফাঁকে আমি তাদের সম্পর্কে খোঁজ খবর নেই এবং তাদের সবাইকে একটা সাধারণ প্রশ্ন করিঃ

ভাই, আপনি কি কু’রআন পুরোটা একবার পড়ে দেখেছেন?

উত্তর হয় দুই ধরনেরঃ

  • না ভাই, আমার এখনও পুরোটা পড়া হয় নি।

অথবা,

  • অবশ্যই, আমি বহুবার পড়েছি।
    • আরবিতে না ইংরেজিতে?
  • আরবিতে।
    • মাশা আল্লাহ, আপিনি আরবি বোঝেন?
  • না।

আমি অনেককেই জিগ্যেস করেছি কেন তারা বুঝে কু’রআন পড়ে না? মোটামুটি সবার একই উত্তরঃ কু’রআন (বাংলা/ইংরেজি অনুবাদ) পড়তে ভালো লাগে না। পড়ে কোন মজা পাই না। এক পাতা পড়ার পর হয় মাথা গরম হয়ে যায়, নাহলে ঘুমে চোখ বন্ধ হয়ে আসে। আমারও এরকম হত। আমি নিজেও যখন প্রথম কু’রআন পড়া শুরু করি, তখন এক নাগারে খুব বেশি হলে ১০ মিনিট ধৈর্য ধরে রাখতে পারতাম। তারপর রেখে দিতাম। সেই দশ মিনিটের মধ্যেও কয়েক বার কোন এসএমএস এসেছে কিনা দেখতাম, ফেইসবুকে কেউ “আমি আজকে খুব সুন্দর একটা ঘুম দিয়েছি” এই ধরণের ফালতু স্ট্যাটাস আপডেট আসলো কিনা দেখতাম, অন্তত দশ বার জিমেইলে রিফ্রেস চেপে দেখতাম যদি চেপে চেপে একটা নতুন মেইল বের করতে পারি ইত্যাদি। আমাকে যদি কেউ জিগ্যেস করত কোন বইটা পড়তে তোমার সবচেয়ে বিরক্তি লাগে, অন্য দশ জন মুসলমানের মত মিথ্যা কথা বলতাম – পড়ার বই। সত্যি ঘটনা ছিল – কু’রআন, এর চেয়ে বিরক্তিকর বই আর কিছু ছিলনা।

Continue reading

Posted in কু'রআন | 3 Comments

আরবি না বুঝে নামায পড়ার ফজিলত

আমরা যারা আরবি বুঝি না, নামায পড়াটা আমাদের কাছে একটি অনুষ্ঠান মাত্র। আমরা ভুল আরবিতে কিছু অর্থহীন আপত্তিকর শব্দ করি, হাত পা উঠা নামা করি, উপর-নীচ হই, ডানে-বামে তাকাই – আর ধরে নেই চমৎকার আল্লাহর ইবাদত করা হল। আরবি যাদের মাতৃভাষা, তারা যখন আমাদেরকে কিছুই না বুঝে আরবিতে নামায পড়তে দেখে, তখন তারা বড়ই অবাক হয় – কেন আমরা কিছুই না বুঝে এরকম একটা কাজ দিনের পর দিন করে যাচ্ছি? যেখানে তারা বুঝে শুনে নিজের মাতৃভাষায় আল্লাহর কথা স্মরণ করছে! একটা উদাহরণ দেই,আমরা যখন বলি – কুলহু আল্লাহু আহাদ – এর বাংলা করলে দাঁড়ায় – খাও, আল্লাহ এক, অদ্বিতীয়। “কুল” অর্থ “খাও”। “কু’ল” (গলার ভিতর থেকে কু বলা) অর্থ “বল”। প্রতিদিন আমরা কত বার না বুঝে বলে যাচ্ছি – খাও, আল্লাহ এক, অদ্বিতীয় – এই ধরে নিয়ে যে নামাযে আমরা বেশ কিছু ভালো কথা বলছি, কিন্তু কি যে বলছি তা না জানলেও চলে, আল্লাহ বুঝলেই হল। আপনার সাথে যখন কোন আরব নামায পড়বে এবং আপনি ইমামতি করবেন, সে আরব বেচারা কি কষ্ট করে হাসি এবং রাগ চেপে রেখে আপনার সাথে নামায পড়বে, কখনও ভেবে দেখেছেন কি?

ধরুন আল্লাহ চাইনিজ ভাষায় কু’রআন নাযিল করেছেন। শেষ নবী ছিলেন একজন চাইনিজ এবং ইসলামের প্রচার হয়েছে চায়না থেকে। আপনি প্রতিদিন সকালে উঠে কান পর্যন্ত হাত তুলে জোরে জোরে বলছেনঃ

চেন্‌ চুন্‌ শি চুই্‌ ওয়েদা

ব্যপারটা আমরা, বাঙালিদের কাছে, কতখানি হাস্যকর চিন্তা করে দেখুন। ঠিক একই ভাবে আরবদের কাছে আমাদের আরবিতে নামায পড়া, দোয়া পড়াটাও একই রকম হাস্যকর ব্যপার।

Continue reading

Posted in উপলব্ধি | 3 Comments

স্বামী কি স্ত্রীকে মারতে পারবে?

সুরা ৪ (নিসা) এর ৩৪ নম্বর আয়াতটির প্রচলিত অনুবাদ হলঃ

ডঃ জহুরুল হকঃ

পুরুষরা নারীদের অবলম্বন, যেহেতু আল্লাহ তাদের এক শ্রেণীকে অন্য শ্রেণীর উপরে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন, এবং যেহেতু তারা তাদের সম্পত্তি থেকে খরচ করে। কাজেই সতীসাধ্বী নারীরা অনুগতা, গোপনীয়তার রক্ষয়ীত্রি, যেমন আল্লাহ রক্ষা করেছেন। আর যে নারীদের ক্ষেত্রে তাদের অবাধ্যতা আশঙ্কা কর, তাদের উপদেশ দাও, আর শয্যায় তাদের একা ফেলে রাখো, আর তাদের প্রহার কর। তারপর যদি তারা তোমাদের অনুগত হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে অন্য পথ খুঁজো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ সর্ব জ্ঞাতা, মহামহিম। (৪:৩৪)

মুহিউদ্দিন খানঃ

পুরুষেরা নারীদের উপর কর্তৃত্বশীল এ জন্য যে, আল্লাহ একের উপর অন্যের বৈশিষ্ট্য দান করেছেন এবং এ জন্য যে, তারা তাদের অর্থ ব্যয় করে। সে মতে নেককার স্ত্রীলোকগণ হয় অনুগতা এবং আল্লাহ যা হেফাযতযোগ্য করে দিয়েছেন লোক চক্ষুর অন্তরালেও তার হেফাযত করে। আর যাদের মধ্যে অবাধ্যতার আশঙ্কা কর তাদের সদুপদেশ দাও, তাদের শয্যা ত্যাগ কর এবং প্রহার কর। যদি তাতে তারা বাধ্য হয়ে যায়, তবে আর তাদের জন্য অন্য কোন পথ অনুসন্ধান করো না। নিশ্চয় আল্লাহ সবার উপর শ্রেষ্ঠ। (৪:৩৪)

আমার ব্যক্তিগত গবেষণা এবং বেশ কয়েকজন গবেষক এবং বিখ্যাত কু’রআনের অনুবাদক আব্দেল হালেম, মুহম্মদ আসাদ এবং ডঃ লালেহ বখতিয়ারের কু’রআনের অনুবাদ অনুসারে আমি এর শুদ্ধতর বাংলা অনুবাদ প্রস্তাব করছিঃ

পুরুষরা নারীদের সংরক্ষণকারী [ভরণপোষণকারী] কারন আল্লাহ পুরুষদের কয়েকজনকে অন্যদের(নারী/পুরুষ) থেকে বেশি দিয়েছেন [অনুগ্রহ করেছেন, সন্মানিত করেছেন], এবং তারা(পু) নিজেদের সম্পত্তি থেকে খরচ করে। আর নীতিবান নারীরা আল্লাহর প্রতি অত্যন্ত অনুগত [ধর্ম প্রাণ, আন্তরিক, অনুগত], গোপন ব্যাপারগুলো গোপন রাখে যা আল্লাহ তাদেরকে রক্ষা করতে বলেছেন। আর তাদের(স্ত্রী) মধ্যে যাদেরকে তোমরা(পু) অসদাচারনের [দুর্ব্যবহার, ঘৃণা, অন্যায় আচরণ, বিদ্রোহাচারণ, খারাপ ব্যবহার] ভয় কর, তাদেরকে(স্ত্রী) তোমরা(পু) সতর্ক কর [উপদেশ, সাবধান, পরিণাম জানানো], তারপর তাদেরকে(স্ত্রী) তোমরা(পু) বিছানায় [শোবার ঘরে] ত্যাগ কর, এবং সবশেষে তাদেরকে(স্ত্রী) তোমরা(পু) আলাদা করে দাও/দৃষ্টান্ত দাও। তবে যদি তারা(স্ত্রী) তোমাদের(পু) সম্মতি দেয়, তাদের(স্ত্রী) বিরুদ্ধে কিছু করবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবার উপরে, মহান। (৪:৩৪)

প্রচলিত অনুবাদে তিনটি বিতর্কিত ব্যপার রয়েছেঃ

  • পুরুষরা স্ত্রীদের উপর কর্তৃত্ব করার অধিকার রাখে।
  • স্ত্রীরা স্বামীর প্রতি অনুগত হতে বাধ্য।
  • স্বামী স্ত্রীর অবাধ্যতার আশঙ্কা করলে স্ত্রীকে প্রহার করতে পারবে, যতক্ষন না স্ত্রী স্বামীকে বাধ্যতার প্রমাণ দেখিয়ে সন্তুষ্ট করতে না পারে।

Continue reading

Posted in কু'রআন, বিতর্কিত | 17 Comments